ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার, কার্যকর মঙ্গলবার


পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস (শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্যসীমা) প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের গতি ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘ সময় পর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। আগামীকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।


সোমবার (৮ জুন) সকালে অনুষ্ঠিত বিএসইসির বিশেষ কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করেছে কমিশন। আজকেই এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হবে। মঙ্গলবার থেকে ফ্লোর প্রাইস ছাড়াই ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ার লেনদেনে হবে।’


এ নির্দেশনার আগ পর্যন্ত সোমবার বেক্সিমকোর শেয়ারে ১১০.১০ এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারে ৩২.৬০ টাকা ফ্লোর প্রাইস ছিল।


বিএসইসির মুখপাত্র আরও বলেন, সেকেন্ডারি মার্কেটে ফ্লোর প্রাইস আরোপ আন্তর্জাতিক বা স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস নয়। শেয়ারের দাম ও লেনদেন সম্পূর্ণভাবে বিনিয়োগকারীদের চাহিদা (ডিমান্ড) ও জোগানের (সাপ্লাই) ওপর নির্ভর করা উচিত। কৃত্রিমভাবে মূল্যসীমা নির্ধারণ বাজারের স্বাভাবিক গতিশীলতার পরিপন্থী। তাই বৈশ্বিক প্র্যাকটিস অনুসরণের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


ফ্লোর প্রাইসের ধারণাটি মূলত প্রাইমারি অকশন বা আইপিও’র সঙ্গে সম্পর্কিত। নতুন একটি কোম্পানি যখন বাজারে আসে, তখন সেটির আগের কোনো লেনদেনের ইতিহাস বা প্রাইস ডেটা থাকে না। বিনিয়োগকারীরা যাতে একদম শূন্য থেকে শুরু না করেন, সেজন্য প্রাইমারি অকশনে একটি প্রারম্ভিক মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া যৌক্তিক।


তবে সেকেন্ডারি মার্কেটে যেহেতু শেয়ারের নিয়মিত লেনদেন হয় এবং এর একটি নির্দিষ্ট বাজারমূল্য আগে থেকেই বিদ্যমান থাকে। তাই এখানে ফ্লোর প্রাইস রাখার কোনো প্রয়োজন নেই।


তথ্য মতে, ফ্লোর প্রাইস হলো শেয়ারের দামের সর্বনিম্ন সীমা। এর নিচে শেয়ারের দাম নামতে পারবে না। করোনা মহামারির শুরুর পর শেয়ারদর যেন অস্বাভাবিকভাবে কমতে না পারে, এজন‍্য ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে কমিশন। করোনা মহামারীর সময়কালে বাজারে শেয়ারের অস্বাভাবিক পতন ঠেকাতে ২০২০ সালের ১৯ মার্চ এ পদক্ষেপ নেন বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। পরে বিভিন্ন মেয়াদে কোম্পানির শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়।


সর্বশেষ ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চারটি কোম্পানির ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়। কোম্পানিগুলো হলো- খুলনা পাওয়ার, শাহজিবাজার পাওয়ার, বিএসআরএম লিমিটেড এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম। তবে তখন ইসলামী ব্যাংক ও বেক্সিমকোর শেয়ারের ওপর আরোপ করা ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহার করা হয়নি, যা সোমবারের বিশেষ কমিশন সভায় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হয়।

Previous Post Next Post

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন